• Page Views 44

ঘুরে আসুন চিরসবুজের ক্যাম্পাস থেকে

ইট-বালি, ধুলোমাখা দেয়ালে বন্দি ব্যস্ত নগর জীবনের কোলাহল থেকে মাঝে মাঝে ছুটে পালাতে কার না মন চায়? কিন্তু চাইলেই তো আর সবসময় পালানো যায় না। নানা সীমাবদ্ধতায় আমাদের জীবন বন্দি।

এই সীমাবদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে যদি আপনার একদিনও সময় থাকে তবে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। যারা ঢাকা বা এর আশেপাশে থাকেন তারা খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন ময়মনসিংহে অবস্থিত প্রকৃতিকন্যাখ্যাত ১২০০ একরের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাস থেকে। ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবেই। ক্যাম্পাসের মাঝ দিয়ে চলে গেছে রেল লাইন। তাই দেরি না করে বেরিয়ে পড়ুন আজই। ফুলে-ফলে সাজানো ক্যাম্পাস দেখে মনে হবে প্রতিটি স্থান যেন এক একটি নার্সারি কিংবা বন।

এ ক্যাম্পাসে রয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন, পৃথিবীখ্যাত জার্মপ্লাজম সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধের সৃতিস্তম্ভ বিজয়-৭১’, গণহত্যার স্মৃতিস্তম্ভ বদ্ধভূমি, শহীদ মিনার, নদের পাড়, বৈশাখী চত্বর, এক গম্বুজ বিশিষ্ট দেশের বৃহৎ কেন্দ্রীয় মসজিদ, দেশের একমাত্র কৃষি মিউজিয়াম, ফিশ মিউজিয়াম, দেশের দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র- বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ও বাংলাদেশ পরমাণু  কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), আম বাগান, লিচু বাগান, নারিকেল বাগান, কলা বাগান, সুবিশাল পানির ট্যাংক, ৬টি অনুষদীয় ভবন, দুটি প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন, কেন্দ্রীয় গবেষনাগার, দুই হাজার আসন বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবন, প্রকৌশল ভবন, অতিথি ভবন, ক্লাব ভবন, ৬৫৭টি আবাসিক ইউনিট, ১২টি ফার্ম, ফিল্ড ল্যাব, ক্লিনিক, ওর্য়াকশপ, শিক্ষার্থীদের জন্য মনোরম ১৩টি হল, স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, ঈশাঁ খা হল লেক, হেল্থ কেয়ার সেন্টর, ফ্যাকাল্টি করিডোর, বঙ্গবন্ধু চত্বর, প্রেম বারান্দা, মারন সাগর, ডরমেটরি, কমিউনিটি সেন্টার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (কেবি কলেজ), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হাই স্কুল (কেবি হাই স্কুল), নৈশ বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ নানা উল্লেখযোগ্য অংশ।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন প্রথমেই প্রাণ জুড়িয়ে যাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশের নরম হাওয়ায়। প্রধান ফটকের সাথেই দেখা মিলবে সাজানো গোছানো পরিপাটি প্রাচীরে ঘেরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (কেবি কলেজ)।

গণহত্যার সৃতিস্তম্ভ বদ্ধভূমি
কেবি কলেজ পার হলেই হাতের বাম পাশের রাসত্মায় ঢুকলে দেখতে পাবেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে  বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার, গণহত্যার স্মৃতিস্তম্ভ বদ্ধভূমি।

বৈশাখী চত্বর 
প্রধান সড়ক দিয়ে শিক্ষকদের আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে একটু এগোলেই নিরাপত্তা জোন-১ এর হাতের বাম পাশের রাস্তায় বৈশাখী চত্বর। নদের পাড় ঘেষেঁ গড়ে ওঠেছে চত্বরটি। নদের পাড়ে বাধা ঘাটে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিতেই পারেন। সারা বছর নিরবে পড়ে থাকে পহেলা  বৈশাখকে বরণ করার জন্য। সেদিন এখানে ছোটখাটো মেলাও বসে। শিক্ষার্থীরা নানাসাজে ভিড় জমায় এখানে। মিলতে পাড়ে বৈশাখী গানের আসরও।

বিজয়-৭১

প্রধান সড়ক দিয়ে আসতে থাকুন। শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা, কামাল রঞ্জিত মার্কেট  (কেআর মার্কেট) মেয়েদের চারটি হল পেরিয়ে বিভিন্ন অনুষদীয় ভবন পার হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এলেই চোখে পড়বে মুক্তিযুদ্ধের সৃতিস্তম্ভ বিজয়-৭১। বিশ্ববিদ্যালয়ের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য। চারপাশে ফুলগাছবেষ্টিত মনোরম পরিবেশ। স্মৃতি ধরে রাখতে এখানে একটা ছবি তুলে নিতে পারেন।

আমবাগানের রাস্তা দিয়ে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন 

বোটানিক্যাল গার্ডেন
বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণের দিক থেকে বাংলাদেশের এক নম্বর এটি। দুষ্প্রাপ্য গাছ-গাছালির সংগ্রহ নিয়ে ২৫ একর জায়গাজুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠেছে সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেনটি। নদের পাড়ে রয়েছে বসার স্থান। ক্যাম্পাস এর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সবুজ শ্যামলি আর পাখির কোলাহল এক নিমিষেই শহুরে ক্লান্তি দূর করে দিবে। এখানে মোট ৬০০ প্রজাতির গাছ আছে। হাজারখানেক বিশাল বৃক্ষ, এক হাজার ২৭৮টি মাঝারি ও চার হাজার ৪৬৭টি ছোট আকারের গাছ আছে। ফলে বিশাল এই বাগানকে ৩০টি জোনে ভাগ করে দেখাশোনা করতে হয়। জোনগুলোর নামও দেওয়া হয়েছে। যেমন ঔষধি, ফুল, ফল, ক্যাকটাস, অর্কিড, পাম, মসলা, টিম্বার, বাঁশ, বেত, বিরল, বনজ উদ্ভিদ ইত্যাদি। জলজ উদ্ভিদের জন্য ওয়াটার গার্ডেন, মরুভূমি ও পাথুরে এলাকায় জন্মে এমন উদ্ভিদের জন্য রক গার্ডেন আছে। দেশের নানা এলাকা থেকে জোগাড় করা বিলুপ্ত ও বিরল ক্যাকটাস আছে নিসর্গ ভবনে।

একেবারে দক্ষিণে আছে অর্কিড হাউস। সুন্দরবন জোনে আছে সুন্দরবনের গাছগুলো। এমনকি সেখানে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, পশুর, বাইন, হোগলা ও ফার্ন জাতীয় গাছ আছে। নিসর্গ ভবনে আছে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় ক্যাকটাসের সারি। ‘পট হাউস’ নামের বিশেষ সংরক্ষণাগারে আছে অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, গন্ধভাদুলি, পূর্ণনভা, কুর্চি, বচ, উলটচন্ডাল, অর্জুনমূল, অঞ্জন ইত্যাদি জাতের ঔষধি উদ্ভিদ। আছে সুগন্ধি জাতের উদ্ভিদ। বাগানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছের মধ্যে আছে স্টার আপেল, আমেরিকান পেয়ারা, থাই পেয়ারা ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে আছে কমব্রিটাম, রনডেলসিয়া, পালাম, ক্যামেলিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, রাইবেলি ইত্যাদি। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের মধ্যে আছে রাজ অশোক, নাগলিঙ্গম, কালাবাউশ, ক্যারিলিফ, ফলসা, মনগোটা, মাক্কি, বনভুবি, লোহাকাট, উদাল, পানবিলাস,  টেকোমা, বহেরা, হরীতকী, কাঁটাসিংড়া, ম্যালারিউকা, প্যাপিরাস, রুপিলিয়া, স্ট্যাভিয়া, হিং, পেল্টো ফোরাম ইত্যাদি। আরো আছে পদ্ম শাপলার ঝিল, কৃত্রিম দ্বীপ, নারিকেল কর্নার, বিলুপ্ত বাঁশঝাড় ইত্যাদি।

এত সব গাছ ঘুরে দেখার সময় মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে মেলবন্ধনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পশু-পাখির প্রতিকৃতি আছে। মূল গেটের কাছে বাঘ, সিংহ, দ্বীপ জোনে দুটি রাজহাঁস ও দুটি সারস, আর্কেডিয়া গাছের নিচে আছে হরিণ। বাগানে বেড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ আছে। নদীর পাড়ে বেড়াতে আসা মানুষ সেখানে বসে গল্প করে। সেই সঙ্গে নদীতে ভেসে বেড়ানো নৌকা দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়। রবি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ও শুক্র-শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত  খোলা থাকে এ গার্ডেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একমাত্র বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রবেশমূল্য ৫ টাকা নেওয়া হয়। আর কোথাও কোনো ফি নেওয়া হয় না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো ফি নেই।

ফ্যাকাল্টির করিডোর
ছয়টি অনুষদের মধ্য দিয়ে রয়েছে সুন্দর করিডোর। ক্যাম্পাসকে করিডোময় বাকৃবি ও বলা যেতে পারে। করিডোরের মধ্য দিয়েও আনমনে হেঁটে বেড়াতে পারেন।

কৃষি জাদুঘর
৬২০ বর্গমিটার আয়তন বিশিষ্ট অষ্টভুজ মিউজিয়ামটি। এ সুদৃশ্য ভবনের মধ্যবর্তী অংশ সূর্যালোকের জন্য উন্মুক্ত রেখে প্রবেশ লবিও অফিসের জন্য বর্তমানে একটি করে মোট ২টি অফিস রুম এবং প্রদর্শনীর জন্য ৬টি সুসজ্জিত ও মনোরম কক্ষ রয়েছে । প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত এই মিউজিয়ামটি বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র কৃষি মিউজিয়াম। ‘কৃষি মিউজিয়াম’ নামে এই জাদুঘরে বাঁশ ও বেতের তৈরি টুকরি, ওচা, মাথলা, বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, টুরং, কুরুম, তেরা, খালই, গরুর ঠোয়া, হুক্কা, চালুন, কুলা ও ডুলি সংরক্ষণ করা হয়েছে। আরও আছে লাঙল, জোয়াল, মই, কোদাল, দা, নিড়ানি, কাসেত, ঢেঁকি, পলো, চেং, বাইর, উড়ি ও সানকি।

বিজয়পুরের চীনা মাটি, এঁটেল মাটি ও দোআঁশ মাটিসহ আরো নানা ধরনের মাটিও সংরক্ষণ করা হয়েছে জাদুঘরে। বিভিন্ন ধরনের সারের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ধান, পাট, ডাল, ছোলা, সরিষা, টমেটো, বাদামও সংরক্ষণ করা হয়েছে এই জাদুঘরে। আরও আছে বিভিন্ন জাতের শস্যবীজ, বিলুপ্ত প্রায় মাছ। সংরক্ষণ করা হয়েছে মাটি পরীক্ষার সামগ্রী (সয়েল টেস্টিং কিট), ইনসেক্ট কালেক্টিং বক্স ও পাহাড়ি চাষাবাদসহ কৃষি কাজের বিভিন্ন মডেল। আছে অজগরসহ নানা বন্যপ্রাণীর কঙ্কাল।   শনিবার ছাড়া সপ্তাহে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরটিতে প্রবেশে কোন ফি নেয়া হয় না।

মৎস্য জাদুঘর
নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের পশ্চিম দিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে দ্বিতলবিশিষ্ট জাদুঘরটি সংগ্রহ ও বৈচিত্র্যর দিক থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ মাছের জাদুঘর। বৈজ্ঞানিক উপায়ে ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় জাদুঘরটিতে সজ্জা ও মাছ সংরড়্গণ করা হয়েছে। দোতলায় জাদুঘরটি মূল সংগ্রহশালা অবস্থিত। জাদুঘরটিতে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে  আপনি প্রথমেই দেখবেন বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মাছের তালিকা, সিড়িঁর নিচে বহু পুরাতন বাঁশের মোথা। আমাদের দেশের ঐতিহ্যর বাবুই পাখির বাসা, মাছ ধরার যন্ত্রপাতি। অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত মাছ সম্পকে এখানে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

সর্বশেষ চতুর্থ গ্যালারিটা বিশেষভাবে আকর্ষণ ছড়ায়। এখানে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিলুপ্ত মাছ ও অন্যান্য প্রাণির জীবাশ্মের সংগ্রহ। স্টারলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্যে যুক্তরাজ্য থেকে এই চমৎকার জীবাশ্মগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গ্যালারিতে ৪০টি জীবাশ্ম ও কঙ্কাল রয়েছে। জাদুঘরটি সপ্তাহে দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৮টা হতে ১২টা পর্যন্ত্ম খোলা থাকে। এটা সবার জন্য ঊন্মক্ত এবং প্রবেশের জন্য কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না।

জার্মপ্লাজম সেন্টার

আমেরিকার US-DARS এর গবেষণায় এটি বাংলাদেশ তথা এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ফলদ বৃক্ষের সংগ্রহশালা। সেন্টারটি  দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য ফল নিরাপত্তা একটি চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ফলমূলে দেশকে আরও প্রসিদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) জার্মপস্নাজম সেন্টার। ফলের জিন সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্র, ফলের হিডেন নিউট্রেশন সংরক্ষণ এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বাকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহযোগিতায় সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড কো-অপারেশনের অর্থায়নে ১৯৯১ সালে ১ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই ফল জাদুঘর। তখন এর নাম ছিল ফ্রুট ট্রি স্টাডিজ। পরবর্তীকালে এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ফল গাছ উন্নয়ন প্রকল্প। যার বর্তমান নাম ফলদ বৃক্ষের জার্মপ্লাজম সেন্টার এবং এর বর্তমান আয়তন ৩২ একর। জ্যৈষ্ঠ মাসে এখানে বামন গাছগুলোতে ঝুলে থাকে অসংখ্য কাঁচা-পাকা ফল যা দেখে জিহ্বায় পানি এসে যায়। কণ্টকাকীর্ণ অমসৃণ কাণ্ড, আগুন রাঙা চোখ এবং ড্রাগনের অবয়বের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। গায়ে খাঁচ কাটা, ক্যাকটাস পরিবারের একটি ফল ড্রাগন! শুনেই মনে হচ্ছে আরব্য রূপকথার সেই দানবের কথা। না এবার সেটি দানব হিসেবে নয়, খ্যাত হবে ফল হিসেবে। শুধু ড্রাগন নয়, এমন হাজার প্রজাতির আকর্ষণীয় বিরল দেশি-বিদেশি ফলের গাছ ঠায় দাড়িয়ে আছে খোলা আকাশের নিচে এক ফালি জমিন কামড়ে।

নদের পাড়
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়েই গড়ে ওঠেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধান সড়কের হাত বাম পাশের পুরোটাই নদ। তাই নদের পাড় হাটতে হাটতেও আপনি ক্লান্ত হতে পারেন। পাড় ঘেঁষে ইটের মেঠো পথ মাঝে মাঝে বসার বেঞ্চ রয়েছে। ইচ্ছা হলে বিকালটা নৌকায় কাটিয়ে দিতে পারেন।
ঈশা খাঁ লেক, লালন চত্বর ও লো অ্যান্ড ডাউন ব্রীজ। আপনি চাইলে ঈঁশা খা লেকের পাড়ে বসে থাকতে পারেন। লেকের পাড়েই একটি খোলা চত্বর রয়েছে। চত্বরটি নাম লালন চত্বর। ছবি তোলার জন্য যেতে পারেন জিটিআই সংলগ্ন লো অ্যান্ড ডাউন ব্রীজে। এটি এখানে সংড়্গেপে লন্ডন ব্রীজ নামেই বেশি পরিচিত।

হর্টিকালচার সেন্টার ও অনান্য
ক্যাম্পাস চত্বরে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। রেল লাইনে আনমনে আপনজনের হাত ধরে কিছুক্ষণ হাঁটতে পারেন। অথবা লিচু বাগান, হর্টিকালচার সেন্টার, আম বাগান, কলা বাগানের রাস্তা ধরে হেঁটে বেড়াতে পারেন নির্বিঘ্নে। বঙ্গবন্ধু চত্বর ফ্যাকাল্টির কড়িডোর বা নদের পাড়ে বসে বসে ও সুন্দর সময় কাটিয়ে দিতে পারবেন।

খাওয়া-দাওয়া
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জব্বারের মোড়,  রেল লাইন, কেআর মার্কেট, করিম ভবনে রয়েছে অনেক খাবার হোটেল। এসব হোটেল সবসময় আপনি মাছ, মাংস, ভর্তা ভাত, খিচুরি সব পাবেন স্বল্পমূল্যে। টিএসসিতে ও খেতে পারেন।   এ ছাড়া ক্যাম্পাসের সাথেই আশপাশে ফসিলের মোড়, রেশষ মোড়ে পাবেন অনেক হোটেলের দোকান। চাইলে বাড়ি ফেরার সময় ময়মনসিংহ শহর থেকে স্পেশাল মালাইকারি মিষ্টি নিয়ে আসতে পারেন। মালাইকারির জন্য মা-মনি সুইটস এবং কৃষ্ণা কেবিন বিখ্যাত।

যেভাবে আসবেন
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস ছেড়ে যায় প্রতি ১৫-২০ মিনিট পরপর। সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। এনা গাড়িতে আসলে ভাড়া নেবে ২২০ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য শ্যামলী বাংলা, আলম এশিয়া, ইসলাম ইত্যাদি গাড়িতে ভাড়া প্রায় ১২০ টাকা। এ ছাড়া আপনি ট্রেন-এ করেও  যেতে পারেন। ময়মনসিংহ এসে মাসকান্দা বা ব্রীজ মোড় নামিয়ে দিবে। মাসকান্দা হতে ক্যাম্পাসে আসতে অটোতে লাগবে সবোর্চ্চ ২০ টাকা করে। ব্রীজ মোড় থেকে অটোতে নিবে ১০ টাকা করে।

লেখক :  শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

সূত্র:কালের কণ্ঠ

Share

আধুনিকতার ‘কল্পরাজ্য’ শাংহাই

Next Story »

সুন্দরের হাতছানি, কিন্তু প্রবেশ নিষেধ!

Leave a comment

LifeStyle

  • রংপুরে জমেছিল পিঠা উৎসব

    22 hours ago

    টানা শৈত্যপ্রবাহের পর আজ সোমবার বেলা ২টার দিকে রংপুরে দেখা মেলে কাঙ্খিত সূর্যের। মিষ্টি রোদে গা গরম করার পাশাপাশি নগরের আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত পিঠা ...

    Read More
  • যখন তখন ঘুমিয়ে পড়ছেন, বড় কোনও অসুখ নয়তো!

    23 hours ago

    রাতের ঘুম ঠিকঠাক হচ্ছে না। অনেক সময় ঠিকঠাক ঘুম হলেও অফিসের কাজের মাঝে ঢুলুনি, ট্রেনে-বাসে উঠেই ঘুম আর নাক ডাকা! চাইলেও ঘুমকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যখন ...

    Read More
  • যেসব ফলে ওজন কমে

    2 days ago

    ওজন কমানোর জন্য মানুষ কতই চেষ্টা করেন! নিয়মিত শরীর চর্চার পাশাপাশি ডায়েট তো আছেই। তারপরও ওজন যেন কিছুতেই কমছে না। তবে কিছু ফল খেয়ে সহজেই এ সমস্যা ...

    Read More
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে নারকেল তেল

    2 days ago

    নারকেল তেল সাধারণত চুল পরিচর্চায় ব্যবহার করি আমরা। রান্নায় নারকেল তেলের ব্যবহার খুব কম বললেই চলে। তবে গবেষকরা বলছেন অন্যান্য তেলের থেকে নারকেল তেল খেলে হার্ট ভাল ...

    Read More
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করবে জলপাই পাতা!

    3 days ago

    জলপাই গাছ এক ধরণের চিরহরিৎ ফল । ভুমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া, বাংলাদেশ ও আফ্রিকার কিছু অংশে এটা ভাল জন্মে। জলপাই গাছ ৮-১৫ মিটার লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা ...

    Read More
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করবে বেদানার খোসা

    3 days ago

    মুখে গন্ধ হলে ধারে কাছে কেউই ঘেঁষতে চায় না। এমনকী মনের মানুষটাও যেন তখন দূরে দূরে থাকতে চায়! দুই বেলা দাঁত মেজেও কোনও সমাধান পাওয়া না গেলে, ...

    Read More
  • শীত সামলান ইচ্ছেমতো

    4 days ago

    ইচ্ছেমতো ফ্যাশন, এটাই যেন শীতের এক মজা। হুডি বা সোয়েটারে সহজে সামলে নিতে পারেন শীত। বেড়াতে গিয়েও ফুরফুরে থাকা যায়। হোক সে জঙ্গলে তাঁবুবাস বা রাতের বারবিকিউ—স্মার্ট ...

    Read More
  • শীতে চুলের যত্নে জেনে নিন

    4 days ago

    শীতকালে চুলের যত্নে অবহেলার কারণে ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাছাড়া, শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকার কারণে আমাদের চুলও শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাইরের ধুলাবালির ...

    Read More
  • চোখ ভালো রাখার ৫ উপায়

    4 days ago

    অফিসে কিংবা বাড়ি ফিরেও কম্পিউটারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকেন। তারপর হাতের মুঠোয় ফোনটার দিকে চোখ তো রয়েছেই। এভাবেই ধীরে ধীরে আপনার চোখের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। দুর্বল ...

    Read More
  • শুক্রাণু বাছাইয়ে বাড়বে গর্ভধারণের সম্ভাবনা!

    4 days ago

    আজাকাল অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বেশ কয়েক বারের চেষ্টাতেও সন্তান ধারণ করতে সক্ষম হননা বহু নারী। এই সমস্যার সমাধানেই আবিষ্কৃত হয়েছে এমন একটি যন্ত্র- যা সবল শুক্রাণু ...

    Read More
  • Read

    More