সন্তানরা ঠিকমতো লম্বা হচ্ছে তো?

বামনত্ব এক ধরনের শারীরিক সমস্যা। এটা পারিবারিক কারণে যেমন হতে পারে, তেমনি অপুষ্টি বা নানা রোগের কারণেও মানুষ বামনত্বের কবলে পড়তে পারে। এর বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা আছে। বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসিও ছোটবেলায় বামনত্বে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসার আওতায় ছিলেন। সফল চিকিৎসার কারণেই বিশ্ব আজ তাঁর মতো খেলোয়াড় পেয়েছে। কিন্তু শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার কারণ, সমস্যা নির্ণয় ও এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখনো রয়েছে অন্ধকারে। যদিও এসব সমস্যার সফল চিকিৎসা এখন আমাদের দেশেও সুলভ।

কী করে বুঝবেন আপনার শিশু বাড়ছে না:
একটি শিশু যদি তার সমবয়সীদের তুলনায় কম উচ্চতাসম্পন্ন হয়, তবেই অভিভাবকরা এ নিয়ে চিন্তিত হতে পারেন। জেনে রাখুন একেক বয়সে উচ্চতা বৃদ্ধির হার একেক রকম। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশু বছরে ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এরপর এ হার কমে আসে এবং ৫-৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই হার বার্ষিক ১০-১২ সেন্টিমিটার হয়। ৬-৭ বছরে আরো কমে বছরে ৫-৬ সেন্টিমিটার হারে বাড়ে। আবার বয়ঃসন্ধিকালে হঠাৎ করেই লম্বা হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং বছরে ১০-১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়তে থাকে। ১৪-১৫ বছরের পর থেকে বৃদ্ধির হার আবারও কমতে থাকে, গড়ে ১ সেন্টিমিটার হারে বেড়ে চলে ১৯ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত। এরপর বৃদ্ধি থেমে যায়।

শিশুর বৃদ্ধি কেন ব্যাহত হয়:
একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি অনেকটাই যেমন জিন ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে তেমনি নির্ভর করে তার সার্বিক সুস্থতা ও হরমোনের ওঠানামার ওপর। একেক এলাকায় ও একেক পরিবারে উচ্চতার প্রবণতা একেক রকম। এছাড়া শৈশবে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা, যেমন কিডনি বা ফুসফুসের রোগ, অপুষ্টি, হজমের গোলমাল ইত্যাদি কারণে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি যে হরমোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করে তার মধ্যে থাইরয়েড ও গ্রোথ হরমোন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ হরমোনগুলোর অভাবে শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে বা ধীর হতে পারে। নানা ধরনের জেনেটিক সমস্যায় মানুষ খাটো হয়, যেমন টার্নার বা ডাউন সিনড্রোমে।

বৃদ্ধি প্রতিবন্ধকতা কী কী সমস্যার সৃষ্টি করে:
ঠিকমতো বৃদ্ধি না হলে একটি শিশু নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে যৌবনপ্রাপ্ত না হওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়, যা পরে তার বিবাহ, সন্তান ধারণ বা পারিবারিক জীবনকে ব্যাহত করে। এছাড়া খাটো শিশুরা টিজিং ও বুলিংয়ের শিকার হয় বেশি, সমাজে একঘরে হয়ে পড়ে, শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় মেধা থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ে।

বৃদ্ধি প্রতিবন্ধকতার চিকিৎসা:
কৃত্রিম গ্রোথ হরমোন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে বামনাকৃতি শিশুদের চিকিৎসা ছিল দুর্লভ। কেননা তখন মৃতদেহের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে হরমোন নির্যাস সংগ্রহ করা হতো এবং এতে প্রায়ই প্রতিক্রিয়া ও নানা রোগের আশঙ্কা থাকত। ১৯৮৫ সালে এ পদ্ধতি বাতিল হয় এবং বর্তমানে কৃত্রিম গ্রোথ হরমোন সোমাট্রপিন বা নরডিট্রোপিন দিয়ে সাফল্যের সঙ্গে এর চিকিৎসা করা হচ্ছে। বর্তমানে যে কয়েকটি সমস্যায় গ্রোথ হরমোন থেরাপি ব্যবহৃত হয় তা হলো-

১. বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত শিশু, যার গ্রোথ হরমোন অপর্যাপ্ত

২. টার্নার সিনড্রোম

৩. কম ওজন ও ছোট আকার নিয়ে ভূমিষ্ঠ শিশু

৪. কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে যাদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট মাত্রার গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গ্রোথ হরমোনের সমস্যা ছাড়া বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্য কোনো কারণ থাকলে সঠিক কারণটি নির্ণয় করে সে অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তবে দুটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।

এক. সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও পরামর্শ নেওয়া,
দুই. যত কম বয়সে চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভালো ফল পাওয়া যায়।

কৈশোর বা তারুণ্যে এসে উচ্চতা বৃদ্ধি কি সম্ভব?
উচ্চতা সমস্যা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয় আমাদের দেশে কৈশোরে বা তারুণ্যে এসে। যখন একটি তরুণ বা তরুণী দেখে যে সে আর দশজনের মতো নয়, এ সময় এরা উচ্চতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে নানা বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয় এবং নানা ধরনের অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার আশ্রয় নেয়। আমাদের হাড়ের উচ্চতা তত দিনই বাড়ে যত দিন পর্যন্ত লম্বা হাড়ের শেষ মাথায় অবস্থিত তরুণাস্থি বা প্লেটটি হাড়ের সঙ্গে মিশে না যায়। যৌবন প্রাপ্ত হলে হরমোনের প্রভাবে এই প্লেট মূল হাড়ের সঙ্গে মিশে যায় বা ফিউশন হয়ে যায় এবং এরপর আর হাড় লম্বায় বাড়তে পারে না। সাধারণত এই ফিউশন ঘটে ছেলেদের বেলায় ১৬ বছর ও মেয়েদের ১৪ বছরের মধ্যে। যদিও ১৯ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত আরো কিছুটা উচ্চতা বৃদ্ধি হতে পারে, তবু ফিউশন হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা করলেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না।

সূত্র:বিডি-প্রতিদিন

Share

চুলের অকালপক্কতা রোধ করবেন যেভাবে

Next Story »

যৌন জীবনে একঘেয়েমি পরকীয়ার কারণ!

Leave a comment

LifeStyle

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁচামরিচ!

    4 months ago

    রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো কাঁচামরিচ। রান্নায় বা সালাদে তো বটেই, কেউ কেউ ভাতের সঙ্গে আস্ত কাঁচামরিচ খেতেও পছন্দ করেন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে ...

    Read More
  • নিম পাতার গুণাগুণ

    4 months ago

    নিমগাছের পাতা, তেল ও কাণ্ডসহ নানা অংশ চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নানা রোগের উপশমের অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এ গাছের। এ লেখায় থাকছে তেমনই কিছু ব্যবহার। ম্যালেরিয়া ...

    Read More
  • ডায়েটের কিছু ভুল

    4 months ago

    আজকাল মোটা হওয়া যেন কারোই পছন্দ না। কিন্তু ডায়েট করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না অনেকেই। কারণ, ডায়েটের সময় আমরা এমন কিছু ভুল করি যেগুলোর জন্য মেদ কমাতো ...

    Read More
  • পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারসের জুস

    4 months ago

    আনারস শুধু সুস্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। রসালো এ ফল জুস তৈরি করেও খাওয়া যায়। সারাদিন রোজা রেখে সুস্থ থাকতে অসংখ্য পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারসের জুস যেমন ...

    Read More
  • অ্যাসিডিটিতে এখন যেমন খাবার…

    4 months ago

    রোজার মাসে সবাই যেন খাবারের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। সারা দিন না খাওয়ার অভাবটুকু ইফতারে পুষিয়ে নেওয়ার জন্য কি এই প্রতিযোগিতা? কে কত খেতে বা রান্না করতে পারে। ...

    Read More
  • ইফতারে স্বাস্থ্যকর ফল পেয়ারা

    4 months ago

    প্রতিদিনের ইফতারে ভাজাপোড়া কম খেয়ে বিভিন্ন ফল খাওয়া উত্তম বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই আপনার ইফতারে থাকতে পারে অতি পরিচিত এই ফলটি। প্রতিদিন মাত্র ১টি পেয়ারা আপনার ...

    Read More
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় লেবুর শরবত

    4 months ago

    গরমে যখন তীব্র দাবদাহে ক্লান্ত, ঠিক তখনই ইফতারে এক গ্লাস লেবুর শরবত হলে প্রাণটা জুরিয়ে যায়। শুধু শরবত হিসেবেই নয়, ওজন কমাতেও অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু ...

    Read More
  • অ্যালার্জি ও সর্দি হয় যে কারণে

    4 months ago

    সাধারণত যারা বেশি পরিমাণে ঘরের বাইরে থাকেন তাদের মধ্যে সর্দি বা এলার্জির পরিমাণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে ঘরের ভেতরে অনেক বস্তু রয়েছে যেগুলো কারো মধ্যে এলার্জি ...

    Read More
  • প্রতিদিন কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কি উপকার হয়?

    4 months ago

    ‘যত কাঁদবেন, তত হাসবেন’- পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কথাটা দারুণভাবে কার্যকরী। কারণ এই সবজি কাটতে গিয়ে চোখ ফুলিয়ে কাঁদতে হয় ঠিকই। কিন্তু এই প্রাকৃতিক উপাদানটি শরীরেরও কম উপকার ...

    Read More
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় হলুদ

    4 months ago

    রান্নাে মশলা হিসেবে অতি পরিচিত হলুদ। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রনের পাশাপাশি এতে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেণ্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিকারসিনোজেনিক, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ...

    Read More
  • Read

    More