এনাঃ অভূতপূর্ব এক আনন্দের ঢেউ বইছে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের মধ্যে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, চলতি পথে বাস- ট্রেন বাঙালির কংগ্রেস বিজয়ের গল্প। ডেমক্র্যাটদের নাজুক পরিস্থিতির ঢেউ প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে তেমন নাড়া দেয়নি হেনসেন ক্লার্কের কারণে। কংগ্রেস বিজয়ের সরকারি ফলাফল ঘোষণার পরই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাস-ফ্লোরিডা-ভার্জিনিয়া হয়ে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কংগ্রেসম্যান হেনসেন হাসিম ক্লার্ক।কূটনীতিক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, গৃহিনী, ছাত্র-ছাত্রী সকলেই অভিবাদন জানাচ্ছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হাসেম ক্লার্ককে। মিশিগানের ডেট্রয়েট, জর্জিয়ার আটলান্টা, নিউজার্সীর পেটারসন, নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস, কুইন্স, ক্যালিফোর্নিয়ার লসএঞ্জেলেস প্রভৃতি স্থানে ৩ নভেম্বর অনানুষ্ঠানিক বেশ কয়েকটি সভা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে প্রথম বাঙালি হেনসেন ক্লার্ককে অভিবাদন জানিয়ে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের জন্য। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে হেনসেন ক্লার্ককে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেন, বার্তা সংস্থা এনার প্রেসিডেন্ট সাঈদ-উর-রব, ডিএনসি মেম্বার খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূরনবী, ডেপুটি কমান্ডার ডা. মাসুদুল হাসান ও শরাফ সরকার, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারী শিতাংশু গুহ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, উত্তর আমেরিকাস্থ জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভানেত্রী বদরুন্নাহার খান মিতা, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ, সেক্রেটারী শফিকউদ্দিন সাহান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান, হাজী আবুল হাশেম, এনআরবি বিজনেস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এলআরবি কন্সট্রাকশনের প্রেসিডেন্ট আকতার হোসেন বাদল, আমেরিকা বাংলাদেশ এডুকেশন এন্ড কালচারাল সোসাইটির সেক্রেটারী কাজী আজম, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সেক্রেটারী মিসবাহ আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন, নিউজার্সীস্থ ডেমক্র্যাট দেওয়ান বজলু, আমেরিকা বাংলাদেশ এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এম এ সালাম, মিশিগান জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ শাহেদুল হক প্রমুখ পৃথক পৃথকভাবে বার্তা সংস্থা এনার মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টিকারী কংগ্রেসম্যান ক্লার্ককে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, তাঁর এই অভূতপূর্ব বিজয়ে তাঁর প্রতি সাধারণ জনগণের গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ। ভবিষ্যত নীতি ও কর্মসূচী প্রণয়নে তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং দেশের প্রতি তাঁর ভালবাসার প্রতিফলন ঘটবে। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পরিষদে তাঁর নির্বাচন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তাঁকে নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ করে দেবে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশসমূহের স্বার্থ সংরক্ষণে তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তারা আশা পোষণ করেন। ৩ জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের কার্যকাল শুরু হওয়ার পর নিউইয়র্ক এবং নিউজার্সীতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে হেনসেন ক্লার্ককে সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ডেট্রয়েট সিটিতেও বড় ধরনের একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এর আগে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন প্রশাসনের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী এবং প্রথম মুসলমান রাষ্ট্রদূত হন ড. ওসমান সিদ্দিক। ২ নভেম্বর মধ্যবর্তি নির্বাচনে কংগ্রেসম্যান হিসেবে জয়ী হবার মাধ্যমে কংগ্রেসের ২২২ বছরের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হিসেবে ইতিহাস গড়লেন মৌলভীবাজার জেলার বিয়ানিবাজারের মোজাফফর আলী হাসেমের পুত্র হেনসেন ক্লার্ক। মার্কিন রাজনীতিকে বাঙালির উত্থানের এটাই প্রথম ঘটনা নয়। ১৯৯০ সালে মিশিগান স্টেট সিনেটে জয়ী হয়েও হেনসেন ক্লার্ক আরেকটি ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিলেন। সরকারি ফলাফল অনুযায়ী ডেমক্র্যাট হেনসেন ক্লার্ক মোট ভোটের ৭৯% অর্থাৎ ১ লাখ ৫০৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম রিপাবলিকান প্রার্থী জন হলার পেয়েছেন ১৯% অর্থাৎ ২৩৪৫২ ভোট। মিশিগান স্টেট সিনেটর হিসেবে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ৩২ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বাংলাদেশী আমেরিকান ড. দেবাশীষ মৃধা। তিনি ৪২% ভোট তথা ৩২৬৯০ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী খান রজারের কাছে। খান রজার পেয়েছেন ৪৩৫৭৪ ভোট।