অবিশ্রান্ত প্রবল বৃষ্টিপাতজনিত বন্যায় পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধুু-বেলুচিস্তানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮। সিন্ধুর মিরপুরখাস, উমেরকোট ও অন্যান্য এলাকায় রোববার মহিলা ও শিশুসহ ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় ৮০ লাখ লোক এবং মারা যায় হাজার হাজার গবাদি পশু।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল কাদির জানান, বন্যায় সিন্ধু এবং পাঞ্জাব প্রদেশে যারা বাড়িঘর হারিয়েছেন তাদের সরকারি বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, সিন্ধুর নিম্নাঞ্চলে প্রায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে। প্রাপ্ত সরকারি তথ্য থেকে এ কথা জানা গেছে।
কাদির জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় জিনিসিপত্র পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজে সেনা ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনগুলোও অংশ নিয়েছে। পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগ, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য সরকার বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে প্রচারাভিযান শুরু করেছে।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার পর্যন্ত পাঞ্জাব হাসপাতালে ১ হাজার ৫শ’ ডেঙ্গু রোগী তাদের নাম নিবন্ধন করিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর ধারণা করছে, আগামী কয়েক দিনে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
২০১০ সালে পাকিস্তানে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে দু’হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে এবং প্রায় ২০ লাখ লোক এতে আক্রান্ত হয়। ওই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক লোক এখনও ত্রাণ শিবিরে অবস্থান করছেন।
এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধি ও কর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ স্থানীয় প্রেস ক্লাবের বাইরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বন্যাদুর্গতদের রেশন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতায় এ প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।